বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ আন্তর্জাতিক

মেক্সিকোয় কার্টেলবিরোধী গোপন অভিযান জোরদার করেছে সিআইএ


প্রকাশ :

মেক্সিকোর মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে গোপন অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে কার্টেল দমনে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সংস্থাটির বিশেষ ইউনিট ‘গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ’।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইএ’র এই গোপন ইউনিট মেক্সিকোর মাটিতে সরাসরি প্রাণঘাতী অভিযানে অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি মেক্সিকো সিটির উপকণ্ঠে এক রহস্যজনক গাড়ি বিস্ফোরণে সিনালোয়া কার্টেলের মধ্যম সারির নেতা ফ্রান্সিসকো বেলট্রান ওরফে ‘এল পায়িন’ এবং তার চালক নিহত হন। একাধিক সূত্রের দাবি, ওই অভিযানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকেই মেক্সিকান কার্টেলগুলোকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় সিআইএকে আগের তুলনায় বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধু তথ্য আদান-প্রদান নয়, এখন সংস্থাটি সরাসরি গোপন অভিযানেও যুক্ত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিআইএ এখন শুধু শীর্ষ নেতাদের নয়, বরং কার্টেল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা মধ্যম সারির সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু করছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে পুরো অপরাধচক্রকে দুর্বল করে দেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত কৌশলই এখন মেক্সিকোতে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই তৎপরতা মেক্সিকোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি সংস্থা সেখানে সামরিক বা আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। যদিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও, পর্দার আড়ালে মেক্সিকো সরকারের কিছু পর্যায়ে সহযোগিতা রয়েছে বলে দাবি প্রতিবেদনের।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে কার্টেলগুলোর প্রভাব বিস্তার করেছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের বদলে স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছে সিআইএ।

সম্প্রতি কয়েকজন মেক্সিকান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্টেলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠার পর ওয়াশিংটনের অনাস্থা আরও বেড়েছে। তবে সাবেক কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার আশঙ্কা, এ ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

সূত্র: সিএনএন