মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল লালমনিরহাট মতামত অন্যান্য

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হলেও শেষ হয়নি আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্ক


প্রকাশ : (১ দিন আগে)
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হলেও শেষ হয়নি আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্ক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। তবে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষ, খেলোয়াড়দের আচরণ এবং রেফারিং নিয়ে বিতর্ক যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যের ইতিহাসের পাশাপাশি বিতর্কের ইতিহাসও কম দীর্ঘ নয়।


বিশ্বকাপের প্রথম আসর ১৯৩০ সাল থেকেই নানা সময়ে বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনার নাম। যদিও এসব ঘটনার কিছু প্রমাণিত, আবার কিছু অভিযোগ আজও বিতর্কের পর্যায়েই রয়ে গেছে।


১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ ছিল আর্জেন্টিনার প্রথম শিরোপা জয়ের আসর। কিন্তু সেই সাফল্যের আড়ালে সবচেয়ে বড় বিতর্ক ছিল পেরুর বিপক্ষে ৬-০ গোলের জয়। ফাইনালে উঠতে বড় ব্যবধানে জয়ের প্রয়োজন ছিল স্বাগতিকদের। ম্যাচের পর থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব ও ম্যাচে অনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে দেশটি সামরিক জান্তার শাসনে থাকায় বিশ্বকাপকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত হয়। যদিও এসব অভিযোগের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ কখনো পাওয়া যায়নি। (সূত্র: History.com, FIFA)


১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর একটি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে হাত দিয়ে করা গোলটি রেফারি বৈধ ঘোষণা করলে বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। পরে ম্যারাডোনা নিজেই গোলটির নাম দেন ‘হ্যান্ড অব গড’। (সূত্র: FIFA, BBC Sport)


চার বছর পর ১৯৯০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের খেলোয়াড় ব্রাঙ্কো অভিযোগ করেন, ম্যাচ চলাকালে তাকে যে পানির বোতল দেওয়া হয়েছিল, তাতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। বহু বছর পরে ম্যারাডোনা নিজের আত্মজীবনীতে ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। (সূত্র: Maradona Autobiography, Reuters)


১৯৯৪ বিশ্বকাপে ডোপ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ পদার্থ শনাক্ত হওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকেই বহিষ্কার হন ম্যারাডোনা। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ডোপিং কেলেঙ্কারি হিসেবে বিবেচিত হয়। (সূত্র: FIFA)


কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-এও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি আর্জেন্টিনাকে। একাধিক ম্যাচে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত, VAR-এর ব্যবহার এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে উত্তপ্ত কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুললেও ফিফা কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি। (সূত্র: FIFA, Reuters)


২০২৬ বিশ্বকাপেও একই চিত্র দেখা যায়। নকআউট পর্বে কিছু ম্যাচে VAR ও রেফারিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পায়নি। (সূত্র: Reuters)


সবশেষে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গলায় হাত দেওয়ায় লাল কার্ড দেখেন। এছাড়া কয়েকজন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় স্পেনের শিরোপা উদযাপনের সময় মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ায় ক্রীড়াসুলভ আচরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। (সূত্র: Reuters, AP News)


বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে যেমন রয়েছে তিনটি শিরোপা, তেমনি রয়েছে নানা বিতর্ক, অভিযোগ এবং সমালোচনার অধ্যায়। তবে এসব ঘটনার অনেকগুলোই অভিযোগের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং ফিফা কখনোই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে অধিকাংশ বিতর্কিত অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণ করতে পারেনি।


তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের পরও একটি বিষয় স্পষ্ট-শুধু মাঠের ফুটবল নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্কও যেন কখনোই পুরোপুরি শেষ হয় না।