বৈশাখের মাঝামাঝিতে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। চারটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে, পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিচু এলাকাগুলোতে পানি ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময় আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতাসংকেত বহাল রাখতে বলেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বজ্রমেঘের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা শুক্রবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী আকারে অব্যাহত থাকতে পারে। এমনকি আগামী সোমবার পর্যন্ত এই বৃষ্টির ধারা চলতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালীর হাতিয়ায় সর্বোচ্চ ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহে ১০৪, নেত্রকোনায় ১০১ এবং পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ঢাকায় ৪৫ মিলিমিটার ও চট্টগ্রামে ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম বড়ুয়া জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এরই মধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নেত্রকোনার ভোগাই কংস নদীর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার, সোমেশ্বরী নদীর পানি ৬৩ সেন্টিমিটার, মগরা নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে বন্যার বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।