শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩
সর্বশেষ বিশেষ সংবাদ জাতীয় সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন বাণিজ্য লাইফস্টাইল আইন-আদালত মতামত অন্যান্য
/ মতামত

নদীর সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় সাধারণ মানুষের দায় কতটুকু ?


প্রকাশ :

প্রতি বছর ১৪ মার্চ বিভিন্ন দেশে নদীকৃত্য দিবস পালিত হয়। এবং প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রবিবার বিশ্বব্যাপী সরকারীভাবে ‘বিশ্ব নদী দিবস’ পালিত হয়। মুল পতিপাদ্য থাকে; নদীর দুষণ রোধ, পানির অবাধ চলাচল নিশ্চিৎ করা, নদীর দখল রোধসহ সকল ধরনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সুরক্ষার অঙ্গিকার। যা মানব দেহ ও সভ্যতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে কল-কারখানার রাসায়নিক বৈর্জ্য, নগরী ও আবাসিক বৈর্জ্য, নদীর জায়গা দখল, ইত্যাদি সমস্যাকে দায়ি করা হয়েছে। 

বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর জলজ জীববৈচিত্র্যের হুমকী, নদীর পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা, নগরীর পরিবেশ-প্রতিবেশের অবক্ষয়, মানবদেহের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করে অনেক তথ্যচিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তুরাগ, বুড়িগঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি নদীর সীমানা পিলার স্থাপন করা নিয়ে, বেশ আইনি জটিলতা সৃষ্টি এবং দুর্নীতির অভিযোগও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। কিন্তু অজানা কারণে তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালে কানাডা ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের নির্মিত রিভারব্লু শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ধরনের পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে। যেখানে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, গঙ্গা নদীসহ বিভিন্ন নদীর বর্তমান অবস্থা ফুটে উঠেছে। এখানে ফ্যাশন, চামড়া ও পোশাক শিল্পের দ্বারা নদী দুষনের বিভিন্ন তথ্য ও চিত্র ধারণ করা হয়েছে। তাদের দায় থেকে মুক্তির না পাওয়ার বিষয়টি পরিস্কার করেছে। এছাড়াও আরো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্মিত তথ্যচিত্রে ফ্যাশন, চামড়া ও পোশাক শিল্পের দ্বারা পরিবেশের ক্ষতির অনেক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। সর্বপরি পরিবেশ রক্ষা করতে এসব পণ্য ব্যবহারের মাত্রা যথা সম্ভব কমাতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পাঁচ বছরে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। এই খালসমূহ কোন কোন এলাকায় কত ঘনফুট মাটি খনন করা হবে? কত ঘনমিটার পানি সংরক্ষিত হবে? এবং কোন কোন নদীর সাথে যুক্ত হবে? তার বিস্তারিত নক্সা এখনো জানা নাই। ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মৃতপ্রায় বড়াল নদীর কি হবে?  এবং নদীর বিশুদ্ধ পানি প্রবাহের সমীক্ষা ব্যাতিত খাল খনন কতটুকু উপকারে আসবে তা একটি বড় প্রশ্ন!! 

বাৎসরিক বাজেটে প্রায় আট লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব দিয়ে যদি নদীর সঠিক ব্যবস্থাপনা না হয়, তাহলে সাধারণ জনগণের দায় কতটুকু?

বাংলাদেশের বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে, পরিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা। ২০০২ সালে বাজারে পলিথিন ব্যবহার রোধে আইন প্রণয়ন করা হয়। তারপর আবার ২০২৪ সাল থেকে তা নিয়ে অনেক তোড়জোড় করা হলেও সহজলোভ্য কোন বিকল্প তৈরী না থাকায় ফলাফল ছিল শুন্য। এটা মূলত নিজেদের বিভিন্ন ধরনের অযোগ্যতা ধামাচাপা দিয়ে জনগণের উপর দায় চাপানোর একটি প্রয়াশ মাত্র। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা হয় নি বরং কাঁচা বাজার থেকে সপিং মল সর্বত্রই পলিথিনের ব্যবহার হয়। তবে, পলিথিন বর্জ্য ব্যবস্থানায় অনেক দক্ষতা অর্জন করার কারণে নদীতে ও মাটিতে কোন প্রকারের পলিথিন পাওয়া যায় না। এই বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের অজানা নয়। 

আগামী ১১ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তিস্তাসহ অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকার, গণমাধ্যম, পরিবেশবাদী ও নদী সুরক্ষা কর্মীদের তৎপরাতা শুরু করা দরকার ছিল। অন্যদিকে অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে ২০২০ সাল থেকে ভারতের জলশক্তি মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কাজ এগিয়ে রেখেছে। আর আমরা শুধু বিভিন্ন দিবসের ছবি পোষ্ট করেই ক্ষান্ত হয়ে বসে আছি। 

যারা  অভিন্ন নদীর চুক্তি বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তারা আমার সাথে ইনবক্সে যোগাযোগ করতে পারেন। লেখক:একজন নদী যোদ্ধা ও গবেষক।